জবির মাঠে মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ


Published: 2021-06-20 21:12:50 BdST, Updated: 2021-08-04 16:31:30 BdST

জবি লাইভ: ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) কর্তৃক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) খেলার মাঠে মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলোয়াড় থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ক্ষোভ ও এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রতিবাদ করছেন।

পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ার ধূপখোলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র খেলার মাঠে এমন স্থাপনা নির্মাণ কোনো ভাবেই কেউ মেনে নিচ্ছেন না। যদি সিটি করপোরেশনের দাবি মাঠ সংস্কার করা হবে। কিন্তু ইতিমধ্যে মাঠের বিভিন্ন অংশে খুঁটি গেড়েছে ডিএসসিসির কর্মকর্তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র খেলার মাঠ রক্ষায় তাই সিটি করপোরেশনের নিকট চিঠি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়াও আগামী রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করার ঘোষণাও দিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনার সংবাদটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর পরই শিক্ষক শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে তুমুল আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীক বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ থেকে শুরু করে প্রতিটি শিক্ষার্থীই নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন ভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করে যাচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠ

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের মহিলা ক্রিকেট দলের আহবায়ক আনতাজ হেনা আখি বলেন, খেলাধুলা হলো শরীর এবং মন দুটাকে একসঙ্গে ভালো রাখার উত্তম ওষুধ। হয়তো এজন্যই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একটি বিশাল অংশ হলো খেলাধূলার মাঠ। খেলাধূলাপ্রেমী ছাত্রছাত্রীদের জন্য খেলারমাঠ হলো ভালোবাসার জায়গা। এই ভালোবাসার জায়গা কখনোই আমরা হারাতে চাই না। তাই ধুপ খোলা মাঠ নিয়ে যে তালবাহানা শুরু হয়েছে তা অতিশীঘ্রই শেষ হোক এবং আমাদের জগন্নাথের প্রতিটা খেলাধূলাপ্রেমী ছাত্রছাত্রীদের একটাই চাওয়া আমাদের মাঠ, আমাদের ভালোবাসা, এটি শুধু আমাদের।

বিষয়টি জবিয়ান‌দের জন্য খুবই দুঃখজনক মন্তব্য করে ক্যারাম প্লেয়ার রাশিদুল ইসলাম ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, জ‌গন্নাথ বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ের মাঠ বল‌তে আমরা ধুপ‌খোলা মাঠই জা‌নি। তাছাড়া ক্যাম্পা‌সের ম‌ধ্যেও তেমন কোনো ফাঁকা জায়গা নেই, যেখা‌নে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা কর‌বেন৷ সুতরাং সি‌টি কর‌পো‌রেশ‌নের এমন উ‌দ্যোগের তীব্র নিন্দা জান‌া‌চ্ছি সেই সা‌থে বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য় প্রশাস‌নকে বিষয়টা খ‌তি‌য়ে দেখার অনু‌রোধ কর‌ছি।

ক্রিকেট দলের ক্যাপ্টেন হৃদয় কুমার দাশ ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে অন্য কারো হস্তক্ষেপ কখনোই কাম্য নয়। দ্রুত এ সিদ্ধান্ত থেকে বের হয়ে আমাদের মাঠ কে খেলার উপযোগী করে তুলতে হবে।

ফুটবল প্লেয়ার মোহাম্মদ লিমন ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, কোন মতেই খেলার মাঠে মার্কেট হতে দেয়া যাবে না। আমাদের একমাত্র খেলার মাঠ আমাদের অস্তিত্ব। শুধু জগন্নাথের ছাত্রছাত্রী না, অত্র এলাকার সবাই এ মাঠে খেলাধুলা করে। বর্তমানে উঠতি বয়সীদের মধ্যে অবসাদ, মাদকাসক্তি বাড়ছে, এ থেকে মুক্তি পেতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। ধুপখোলা মাঠ আমাদের, আমাদেরই থাকবে। আমরা খেলেছি, ভবিষ্যতেও এই মাঠেই খেলব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠ

 

হ্যান্ডবল প্লেয়ার মোঃ ফয়সাল ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি মাঠ রয়েছে যা কি না সিটি করপোরেশনের দখলের মধ্যে আছে। আমরা আমাদের মাঠ ফিরে পেতে চাই।

কার্যক্রমটির বিরোধীতা করে ভলিবল প্লেয়ার হৈমন্তী রানী ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, যথেষ্ট হয়েছে, দেশে মার্কেটের অভাব পড়েনি। মাঠ আমাদের ভালোবাসার, আমাদের ছিল, আমাদের থাকবে।

ভলিবল প্লেয়ার বারখা দেবী ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, আমাদের ক্যাম্পাস অনেক ছোট এটা আমরা সবাই জানি। আর ছোট হওয়াতে আমরা অনেক রকম সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। তার মধ্যে একটা হচ্ছে খেলাধুলা। আমরা ক্যাম্পাসে ঠিক মত খেলাধুলা করতে পারিনা। আর তাই আমরা ধূপখোলা মাঠেই সব করে থাকি। বিভিন্ন রকম টুর্নামেন্ট এর আয়োজন সেখানে করি। সেই জায়গায় যদি সিটি করপোরেশন মার্কেট বানায় তাহলে আমরা যাবো কোথায়। আমাদের তো খেলার কোনো জায়গায় থাকছে না। আমরা খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হব। তাই আমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও একজন খেলোয়াড় হিসেবে কোনো ভাবেই এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছি না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, আমরা প্রথমে সেখানে গিয়েছিলাম, সেখানে দেখি চারটি পিলার বসানো। আমরা তৎক্ষনাৎ যারা কাজ পেয়েছে তাদের সাথে এবং ইঞ্জিনিয়ারদের সাথে কথা বলে তাদেরকে বললাম, যেহেতু আমরা জানি না আমাদের সাথে আপনারা আলাপ আলোচনা করে তারপর যেটা ভালো হয় সেই কাজটি করবেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রের সাথে আমাদের মাননীয় উপাচার্য স্যার আজকে কথা বলেছেন৷ আমরা আগামী সপ্তাহে তার সাথে সাক্ষাৎ করবো।

ছাত্র কল্যাণ পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আব্দুল বাকী ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, সিটি করপোরেশন বেশ কয়েকবার এখানে বেশ কিছু করার উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু বারবরই কেন জানি ওনারা মার্কেটের উপর বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। মাঠটা যেন উন্মুক্ত মাঠ থাকে, আমার ছেলেমেয়েরা খেলাধুলা করতে পারে তাতে যেন বাধাগ্রস্ত হয় এমন কোনো কার্যক্রম থেকে বিরত থাকা সবার জন্যই মঙ্গলজনক।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল হাসেম ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, মাঠ ডেভেলপ করার পর তাদের মাঠ তাদেরই থাকবে। ওরাই খেলাধুলা করবে। আর মার্কেটটি যে চতুর্দিকে রয়েছে সেটিকে সুন্দর করে একটি ডিজাইন দিয়ে এক সাইডে নিয়ে আসা হচ্ছে। বাকি সব তো মাঠ থাকবে। যদি দুইহাত এইদিক দিয়ে ভিতরে ঢুকে তাহলে ওনারা দুই হাত পূর্বদিকে বাইরে পাবে। মানে ওনাদের মাঠ ঠিক থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠ

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. নূরে আলম আব্দুল্লাহ ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, মাঠটি সরেজমিনে পরিদর্শন করলেই দেখা যাবে পুরো মাঠটিকে তিনটি অংশে ভাগ করার পর একটি অংশ পেয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। সেই অংশটুকুতেই তারা মার্কেট নির্মানের পরিকল্পনা করছে। তার মানে মার্কেট নির্মাণ হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠটি নষ্ট হয়ে যাবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো মাঠ থাকবেনা। তারা যেটা বলছে সেটা সম্পূর্ণ সত্য কথা নয়।

তিনি আরও বলেন, মেয়র সাহেবের সাথে আমরা আলোচনার জন্য আহবান জানিয়েছি। তাঁর রেসপন্স এর উপর নির্ভর করবে আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কি হবে।

এছাড়াও মার্কেট নির্মাণ করে মাঠটি নষ্ট না করে লিগ্যাল ডকুমেন্টস তৈরি করে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তরের অনুরোধ করেন তিনি।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মোঃ ওহিদুজ্জামান ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ভিসির আদেশক্রমে সিটি করপোরেশনের মেয়র মহোদয়ের সাথে বিষয়টি সমাধানের জন্য একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই একটি সিদ্ধান্তে আসতে পারবো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ও ক্রীড়া কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. কামালউদ্দিন আহমদ বলেন, এই মাঠ দীর্ঘদিন ধরে আমাদের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। এই মাঠেই আমাদের সমাবর্তন হয়েছে। আমরা সব তথ্য-উপাত্তসহ মেয়রকে চিঠি পাঠিয়েছি।

এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মো. ইমদাদুল হক ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ‘আমরা খুব দ্রুত (চলতি সপ্তাহে) সিটি করপোরেশনের মেয়রের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করার চেষ্টা করব।’

ঢাকা, ২০ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআইএস//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।