ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান গ্রন্থাগারে ধাক্কাধাক্কি, তারপর...


Published: 2021-09-26 14:43:48 BdST, Updated: 2021-10-18 12:37:47 BdST

ঢাবি লাইভ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার খুলে দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনার্স চতুর্থ বর্ষ এবং মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি এবং সাইন্স লাইব্রেরি।

তবে নিয়ম না মেনে গ্রন্থাগারে প্রবেশের চেষ্টা করায় কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বাধা দেওয়া হয়। তখন সেখানে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। রোববার বিজ্ঞান গ্রন্থাগারে এই ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে গ্রন্থাগার খুলে দেওয়ার পর ফটকে অন্তত এক ডোজ করোনা টিকার প্রমাণপত্র ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র দেখা সাপেক্ষে শিক্ষার্থীদের গ্রন্থাগারে প্রবেশ করতে দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। কিন্তু বিজ্ঞান গ্রন্থাগারে কিছু শিক্ষার্থী স্বাস্থ্যবিধি না মেনে আগের মতোই হুড়মুড় করে ভেতরে ঢুকে যত্রতত্র বসে পড়তে শুরু করেন। এ সময় ভেতরের সব আসন পূর্ণ হয়ে গেলে গ্রন্থাগারের ফটক আটকে দেয় কর্তৃপক্ষ। এ সময় ধাক্কাধাক্কিতে গ্রন্থাগারের কয়েকজন কর্মচারীর শরীরে আঘাত লাগে।

কর্মচারীদের অভিযোগ, এ সময় কয়েকজন কর্মচারীকে ধাক্কা এবং ঘুষি দিয়ে মাঠিতে ফেলে দেয় শিক্ষার্থীরা। বাইরের কোনো বই নিয়ে লাইব্রেরিতে প্রবেশের নিয়ম না থাকলেও সে নিয়মও মানেননি শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন বিসিএস পরীক্ষার বই হাতে নিয়ে ঢুকে পড়েন শিক্ষার্থীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, দীর্ঘ দিন গ্রন্থাগার বন্ধ থাকায় চাকরিপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীসহ সবাই গ্রন্থাগারের বাইরে এতোদিন পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। এখন গ্রন্থাগার খোলায় সবাই ভেতরে পড়াশোনা করছেন। প্রবেশের সময় প্রথমে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়া হলে শিক্ষার্থীদের হৈ-হুল্লোড় আর চিৎকার-চেঁচামেচিতে তা আর সম্ভব হয়নি।

পরে বিজ্ঞান লাইব্রেরিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম গোলাম রাব্বানী প্রবেশ করেন। তার সঙ্গে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারিক নাসির উদ্দীন মুন্সি। এ সময় চতুর্থ বর্ষ এবং মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছাড়া বাকিদের বাইরে বের হয়ে যেতে বললে কিছু শিক্ষার্থী প্রক্টরের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর লিটন কুমার সাহা রেগে এক শিক্ষার্থীর দিকে তেড়ে যান। প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা তাঁকে ঘিরে ধরেন। এ সময় গ্রন্থাগারের ভেতরে বেশ উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এ সময় গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘তোমাদের সহযোগিতা করে কি আমরা ভুল করেছি? তোমাদের এমন স্মৃতি দিও না যে স্মৃতি আমদের কষ্ট দেয়। তোমাদের প্রতি আমাদের যে মমত্ববোধ সেটি কি আমরা এই দেড় বছরে প্রমাণ করিনি! তোমরা যারা নিয়মিত শিক্ষার্থী আছ, তারা পড়। আর যারা নিয়মিত শিক্ষার্থী না তোমরা আমাদের সহযোগিতা কর। তোমাদের বিষয়ে আমরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব।’

এ বিষয়ে ভিসি প্রফেসর ড. মো. আখতারুজ্জামান জানান, আমাদের শিক্ষার্থীদের সচেতনার জায়গাটি খুবই প্রখর। আর এটিই আমাদের শক্তি। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে শিক্ষার্থীদের যথেষ্ঠ সচেতনতা ছিলো। আমরা শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে শ্রদ্ধাশীল। আমরা সকলে যদি দায়িত্বশীল আচরণ করি তাহলে কিন্তু একটি শিক্ষা অনুকূল পরিবেশ আমরা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবো।

ঢাকা, ২৬ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।