আমি আমার কাজে তৃপ্ত- রাবি ভিসি


Published: 2021-05-04 11:20:19 BdST, Updated: 2021-05-18 22:16:28 BdST

রাবি লাইভ: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যলয়ের (রাবি) উপাচার্যের প্রফেসর ড. আব্দুস সোবহানের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী বৃহস্পতিবার (৬ মে)। তার মেয়াদকালে জন্ম দিয়েছেন নানা বির্তকের। তবুও বিদায়ের পূর্বে নিজের সফলতার গল্পটাও জানিয়ে গেলেন এই উপাচার্য।

উপাচার্য হিসাবে দায়িত্ব শেষ হওয়ার পূর্বে গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যলয় নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেছেন, দায়িত্বের দুইপর্বে আমি আমার মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা, সততা এবং দেশপ্রেম যতটা আমার আছে, তার পুরোটাই নিবেদন করেছি কর্মসম্পাদনে। আমার কাজে সফল-ব্যর্থতা সে বিচারের ভার তো আপনাদের।

অগ্রগতির তো কোনো শেষ নেই। তবে আমি আমার কাজে তৃপ্ত। এখানে উল্লেখ করা একান্ত প্রাসঙ্গিক যে, ২০১০ সালে গবেষণায় রাবির পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ এবং ২০১৯ সালে রাবি সামগ্রিকভাবে গবেষণায় বাংলাদেশে প্রথম স্থান অর্জন করেছে (যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা কোপাস-এর জরিপ)।

তিনি উল্লেখ করে বলেন, প্রথমবারের মতো রাবিতে ডিজিটাল আর্কাইভস প্রতিষ্ঠা, ৫০ বছরের মাস্টারপ্লান প্রণয়ন, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স এবং ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছি। তাছাড়া শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালায় বঙ্গবন্ধু কর্নার এবং মুক্তিযুদ্ধ কর্নার স্থাপন করা হয়েছে। অগ্রগতির তালিকা তৈরি করলে বেশ দীর্ঘ হবে। সশরীরে কেউ রাবি ক্যাম্পাসে এলে অগ্রগতির নিদর্শন তার চোখে পড়বেই।

‘‘২০২০ সালে বিশ্বের এক লাখ ৫৯ হাজার ৬১২ জন শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীর তালিকায় রাবির একজন শিক্ষক ২৮৪তম স্থান অর্জন করেছেন। ২০২১ সালে স্পেনের শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিমাগো ইনস্টিটিশন কর্তৃক প্রকাশিত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৪১২৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রাবির অবস্থান ১১তম (জরিপকাল ২০১৫-২০১৯)।’’

অধ্যাপক আব্দুস সোবহান বলেন, প্রত্যাশা যদি সীমাহীন হয় তবে অপ্রাপ্তি সেখানে থাকবেই। আমার চাওয়া, আকাঙ্ক্ষা, প্রত্যাশা সীমাহীন নয়। যতটা চেয়েছি তার শতভাগ পূরণ না হলেও খুব কাছাকাছি। তাই আমার কোনো অতৃপ্তি নেই। আকাশচুম্বি প্রত্যাশা থাকলে মৃত্যুটি হবে অতৃপ্তির।

এর আগে, দ্বিতীয় মেয়াদে প্রথমে ২০০৯ থেকে ২০১৩ এবং পরে ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। তার দায়িত্বে থাকাকালীন জন্ম হয়েছে অনেক আলোচনা-সমালোচনার। বিশেষ করে নিয়োগ নীতিমালা নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করেছে ইউজিসিও।

অধ্যাপক ড. এম আব্দুস সোবহানের জন্ম নাটোরে। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩ তম উপাচার্য। আব্দুস সোবহান ফলিত পদার্থবিজ্ঞান ও ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মত দুইবার উপাচার্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

এম আব্দুস সোবহান রাজশাহী বোর্ডের অধীনে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পদার্থবিজ্ঞান (বর্তমানে বিভাগের নাম ইলেক্ট্রিকাল ও ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৭৪ সালে উক্ত বিভাগ থেকে বিএসসি অনার্স পাশ করেন এবং ১৯৭৫ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পদার্থবিজ্ঞান ও ইলেক্ট্রনিক বিভাগ থেকে এমএসসি পাশ করেন।

উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য এম আব্দুস সোবহান অস্ট্রেলিয়ায় গমন করেন। তিনি অস্ট্রেলিয়ার নিউ-ক্যাসেল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর পর্যায়ে গবেষণার জন্য বৃত্তিপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। ১৯৯২ সালে উক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রী লাভ করেন। তার পিএইচডির বিষয় ছিলো সারফেস ফিজিক্স।

ঢাকা, ৪ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//ওএফ//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।