একদিনে ১৩৭ পদে নিয়োগ, সকলকেই জেরা!তদন্ত কমিটির মুখোমুখি রাবি’র বিদায়ী ভিসি, স্লোগান


Published: 2021-05-08 22:52:57 BdST, Updated: 2021-06-18 18:43:47 BdST

রাবি লাইভ: রাজশাহী বিশ্ববিদালয়ের (রাবি) সদ্য বিদায়ী ভিসি অধ্যাপক ড. এম আব্দুস সোবহান বলেছেন, আমি মনে করি যারা নিয়োগ পেয়েছে তারা সবাই নিয়োগ ডিজার্ভ করে। এখানে মানবিক দিকটি বিবেচনা করা হয়েছে। আমার মতে কোন অন্যায় করিনি। তিনি নিজেই নিজের সাফাই গাইলেন। বিতর্কিত ১৪১ পদে এডহকের নিয়োগের বিষয়ে এসব কথা তিনি বলেছেন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৭৩ এর অধ্যাদেশে একটা আইন আছে। সেই আইনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে একটা ক্ষমতা দেয়া আছে। সেই আইনের বলে আমি নিয়োগ দিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, যেখানে সুস্পষ্ট আইন আছে সেখানে নিষেধাজ্ঞা আসতে হলে তো ওই আইনটা বাতিল হওয়া উচিত। শনিবার বিকাল ৩টায় ভিসির কার্যালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত তদন্ত টিমের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন। তদন্ত কমিটির সঙ্গে প্রায় দুই ঘন্টা বৈঠক শেষে ভিসি বলেন, দীর্ঘদিন থেকে ক্যাম্পাসে কোনো নিয়োগ হয়নি। আমরা নিয়োগ প্রক্রিয়াটা অনেক আগেই শুরু করেছিলাম।

কিন্তু এর মধ্যেই করোনাভাইরাস আসলো। এরই মধ্যে কিছু শিক্ষক বলে যে নিয়োগ দেয়া যাবে না, নিষেধাজ্ঞা আসবে। এরপরেই আমার ই-মেইলে নিষেধাজ্ঞাটি আসে। আমি বিষ্মিত হয়েছি, সেই শিক্ষকরা আগে থেকেই নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি কি করে জানলো? এদিকে শনিবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আব্দুস সালাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য বিদায়ী ভিসি অধ্যাপক আব্দুস সোবহানের দেয়া ‘অবৈধ’ নিয়োগে নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগদান স্থগিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত বুধবার (৫ই মে) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এডহকে যে নিয়োগ দেয়া হয়েছে তা শিক্ষা মন্ত্রণালয় অবৈধ ঘোষণা করেছে। একইসঙ্গে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে মন্ত্রণালয় কর্তৃক একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির রিপোর্টের প্রেক্ষিতে কোনোরূপ সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত নিয়োগপত্রের যোগদান এবং তদসংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম স্থগিত করার জন্য অনুরোধ করা হলো।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তা নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এসেছি যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারি। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় যেভাবে বলেছে আমরা সেভাবে কাজ করছি। আমরা এই বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গেই কথা বলেছি।

ড. মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, সকল তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছি, সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র দেখেছি। আমরা সেসব কাগজপত্র পর্যালোচনা করে আমাদের প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেবো। আমরা চাই যে উদ্দেশ্য নিয়ে এই বিশ্ববিদ্যাল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সেই উদ্দেশ্য যেন সফল হয়।
উল্লেখ্য, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও গত বুধবার (৬ই মে) ক্যাম্পাসে মেয়াদের শেষ দিন শিক্ষকসহ ১৪১ জনকে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেন রাবি’র বিদায়ী এই উপাচার্য। সেই নিয়োগকে অবৈধ ঘোষণা করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

দ্বিতীয় মেয়াদের শেষে বিভিন্ন হল-দপ্তরে ১৩৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিয়োগ কার্যক্রমে অনিয়ম হয়েছে কি না,তা তদন্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। দফায়-দফায় মিটিং করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি, প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম, সাদা দল এবং বর্তমান রুটিন দায়িত্বে থাকা প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. আনন্দ কুমার সাহার সাথে।

প্রসঙ্গত বিকালে পুলিশি পাহারায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনে প্রবেশ করে তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হন বিদায়ী প্রফেসর এম আবদুস সোবহান। এই সময় ছাত্রলীগের নিয়োগপ্রাপ্তদের উপস্থিত থেকে শ্লোগান দিতে দেখা যায়।

যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়ঃ

মো. মামুন অর রশীদ, সহকারী রেজিস্ট্রার পরিষদ, শাখা সিনেট ভবন। ইউসুপ আলী ডেপুটি রেজিস্ট্রার সংস্থাপন শাখা। মো. তরিকুল আলম সহকারী রেজিস্ট্রার, রেজিস্ট্রার অফিস। ড. দিন বন্ধু পাল চেয়ারম্যান, সংগীত বিভাগ। প্রমুখ বিতর্কিত নিয়োগের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে জেরা শেষে তদন্ত কমিটি প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য ড. মো. আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, আমরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদায়ী ভিসি আবদুস সোবহান কর্তৃক প্রদত্ত নিয়ম বহির্ভূতভাবে নিয়োগের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক তদন্তের দায়িত্ব অর্পণ করায় তদন্ত কার্য পরিচালনা করছি।

নিয়োগের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সকল ফাইল পত্র এবং কাগজ পত্রাদি যাচাই করে দেখা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমরা এই ক্যাম্পাসের সুনাম অক্ষুন্ন থাকুক চাই। এই শিক্ষাঙ্গনের শিক্ষার পরিবেশ সঠিক থাকুক এবং দূর্নীতিমুক্ত এটাই চাই

ঢাকা, ৮ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এআইটি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।