মেলেনি অনেক প্রশ্নের উত্তর...রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সিভি ছাড়াই মিলেছে চাকরী!


Published: 2021-05-17 13:14:34 BdST, Updated: 2021-06-18 17:49:33 BdST

উমর ফারুক, রাবি থেকে: বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক তদন্ত প্রতিবেদনে ভিসি আবদুস সোবহানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমানিত হওয়ার পরেও নিয়মের তোয়াক্কা না করে ৫ মে কাগজপত্র প্রস্তুত করে ৬ মে সবাইকে ডেকে নিয়োগ দেয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য বিদায়ী ভিসি প্রফেসর এম আবদুস সোবহান।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেয়া নিষেধাজ্ঞা থাকা স্বত্বেও কেনও ১৩৮ জনকে নিয়োগ দেয়া হলো তা ক্ষতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা। পরবর্তীতে গত ৮মে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত হয় কমিটির সদস্যরা। দফায়-দফায় মিটিং করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি, প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম, সাদা দল এবং বর্তমান রুটিন দায়িত্বে থাকা উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. আনন্দ কুমার সাহার সাথে।

এর আগে উপাচার্য কার্যালয়ে আলাদা আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বিদায়ী উপাচার্য প্রফেসর এম আবদুস সোবহানের বিতর্কিত নিয়োগের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে জেরা করা হয়। একে একে মিটিং করা হয় নিয়োগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।

সেদিনই পুলিশি পাহারায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনে প্রবেশ করে তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হন বিদায়ী প্রফেসর এম আবদুস সোবহান।

তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হয়ে অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হন বিদায়ী ভিসি। মেলেনি অনেক প্রশ্নের জবাব। এমনটাই জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান অধ্যপক আলমগীর হোসেন

তদন্তের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা ১৩৮ জনের তালিকা পেয়েছি। তাদের মধ্যে ৯ জনের সিভি পেয়েছি। বাকি কারো কোনো ডকুমেন্টস নেই। তার মানে পুরো প্রক্রিয়াতেই অস্বচ্ছতা কাজ করেছে।

তিনি আরো বলেন, উপাচার্যের সাক্ষাৎকার নিয়েছি। তাতে অনেক বিষয়ের তিনি উত্তর দিতে পারেননি। অনিয়মের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।

তদন্ত প্রতিবেদন কবে জমা দেয়া হবে সে বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক আলমগীর হোসেন বলেন, এখনও কাজ শেষ হয়নি। তবে সময়ের মধ্যেই প্রতিবেদন জমা দেয়ার চেষ্টা করা হবে।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম বলেন, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হলে চাকরির জন্য জীবনবৃত্তান্তসহ আবেদন করতে বলা হয়। সব নিয়োগেই এমনটি হয়ে থাকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে আর কোনো ডকুমেন্টস জমা পড়েছে কিনা জানতে চাইলে অধ্যাপক আব্দুস সালাম বলেন, যে ডকুমেন্টসগুলো ছিল সেগুলো তদন্ত কমিটি নিয়ে গেছে। এটি তদন্তাধীন বিষয়। এ নিয়ে আর কোনো কথা বলবো না।

অপরদিকে যারা নিয়োগ পেয়েছেন তাদের অনেকে বলছেন, একবার নয় কেউ কেউ একাধিকবারও সিভি জমা দিয়েছিলেন উপাচার্যের কাছে।

নিয়োগ পাওয়াদের একজন মাহফুজ আল আমিন দাবি করেন, নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিরা উপাচার্যের কাছে সিভি জমা দিয়েছেন। কেউ কেউ একাধিকবার সিভি জমা দিয়েছেন। এগুলো প্রশাসনের কাছে জমা আছে। নিয়োগকে বিতর্কিত করতে এমন বিষয় ছড়ানো হচ্ছে।

বিদায়ী ভিসি প্রফেসর এম আবদুস সোবহান নিয়োগের বিষয়ে মুখ খুলে বলেন, যাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে তারা এটা ডিজার্ভ করে। কারণ প্রত্যকে অনার্স মাস্টার্স পাশ। তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণীর চাকরী দেয়াটা যৌক্তিক সেজন্য আমি ছাত্রলীগকে এই নিয়োগ মানবিক কারণে দিয়েছি।

নিয়োগ সম্পর্কে তিনি বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ বন্ধ ছিলো। দ্বিতীয়,চতুর্থ শ্রেণী ২০১৩-২১ সালের মাঝে কোন নিয়োগ হয়নি। আমরা নিয়োগ নেয়া প্রক্রিয়া শুরু করেছিলাম, সেই নিয়োগ নেয়া প্রক্রিয়া মধ্যে হঠাৎ করে করোনা আসে। আমরা তখন বন্ধ করে দেই। এর পরে চারপাশ থেকে গুঞ্জন শোনা যায়, কিছু কিছু শিক্ষকের মুখে তারা বলে এ নিয়োগ দেয়া যাবে না। মন্ত্রনালয় থেকে নিষেধাজ্ঞা আসবে। ডিসেম্বর ১৩ তারিখে স্থগিতাদেশ আসে আমি বিস্মিত হই। শিক্ষকরা কিভাবে আগে থেকেই জানলো। কিছু শিক্ষক ক্যাম্পাসটাকে অস্থিতিশীল করার জন্য চেষ্টা করেছে। এ নিয়োগে কারো কোন হাত নেই। ছাত্রলীগের এটা প্রাপ্তি ছিলো।

উল্লেখ্য, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও নানা বির্তকের মাঝে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বিদায়ী ভিসি প্রফেসর এম আব্দুস সোবহান ১৩৭ জনকে অ্যাডহকে নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগদান স্থগিত করেছ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা, ১৭ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।