রাবি সায়েন্স ক্লাবের ওয়েবিনারে....মসলিনের পুনর্জন্মের গল্প জানালেন রাবি প্রফেসর


Published: 2021-09-16 07:54:55 BdST, Updated: 2021-10-22 17:55:08 BdST

রাবি লাইভ: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্স ক্লাবের উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী মসলিন কাপড়ের পুনর্জন্মের উপর ওয়েবেনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল (বুধবার) রাত ৮ টায় ওয়েবিনারটি উদ্বোধন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর ড.সুলতান-উল-ইসলাম।

ওয়েবিনার প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশের সোনালি ঐতিহ্য মসলিন সুতা তৈরির প্রযুক্তি ও মসলিন কাপড় পুনরুদ্ধার (প্রথম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের প্রধান বৈজ্ঞানিক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর মো. মনজুর হোসেন।

মসলিন সুতা ও কাপড়কে পুনরায় ফিরিয়ে আনার ভেতরের গল্প সবার মধ্যে তুলে ধরে প্রফেসর ড. এম. মনজুর হোসেন বলেন, '২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে হারিয়ে যাওয়া মসলিনকে ফিরিয়ে আনতে কাজ শুরু করি। প্রথমে মসলিন সম্পর্কে স্টাডি করে জানতে পারি ঢাকাই মসলিন তৈরি হতো কটন থেকে। এরপর আমি ও আমার সাথল গবেষকদল সারাদেশে সেইসকল কটন উদ্ভিদের খোঁজ শুরু করে এবং বেশ কিছু উদ্ভিদের সন্ধান পান।

সেইসকল উদ্ভিদের থেকে প্রাপ্ত কটনের ডিএনএ বিশ্লেষণ করে ভিক্টোরিয়া ও আলবার্ট মিউজিয়াম (ব্রিটেন) থেকে সংগৃহীত মসলিনের নমুনার সাথে মিল দেখতে পাই। এরপর শুরু হয় কটন থেকে সুতা তৈরী এবং আরোসব চ্যালেঞ্জিং ধাপ সম্পন্ন করে মিউজিয়াম কর্তৃক সংগৃহীত নমুনার প্রায় ৯৮ শতাংশ মিল সম্পন্ন মসলিন কাপড় তৈরি সম্ভব হয়।'

মসলিনের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তিনি বলেন,' শীতলক্ষ্যার তীরে মসলিন সুতা ও কাপড় তৈরীর কারখানা গড়ে উঠেছে। এসকল ইন্ডাস্ট্রি থেকে পরবর্তীতে প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব। মসলিন এর যে গৌরব হারিয়ে গিয়েছিলো সেটা আবার পুনর্জন্ম হওয়ায় তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগ এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং গবেষক দলের কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।'

ওয়েবিনার

 

জিন প্রকৌশল বিভাগের প্রফেসর মোঃ আবু রেজা বলেন, 'গবেষণার ক্ষেত্রে কখনো পিছু হটা যাবে না।গবেষণার ক্ষেত্রে সামনে এগিয়ে যেতে হবে ছাত্র, শিক্ষক সবাইকে।সীমাবদ্ধতা গুলো কাটিয়ে উঠতে হবে।'

ওয়েবিনারে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রাণ রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর তানজিমা ইয়াসমিন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্স ক্লাবের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ও স্থায়ী কমিটির প্রধান জনাব জহুরুল ইসলাম মুন, স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ ও আজীবন সদস্য বৃন্দ।

এছাড়াও, ওয়েবিনারে মসলিনের উপর একটি কুইজ অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে প্রায় ২৫০ জন অংশগ্রহণ করে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের অক্টোবরে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মসলিনের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার কথা বলেন। বাংলাদেশের কোন কোন এলাকায় মসলিন সুতা তৈরি হতো, তা জেনে সে প্রযুক্তি উদ্ধারের নির্দেশনা দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশে তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যানকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়।

এই কাজ সম্পন্ন করার জন্য ‘বাংলাদেশের সোনালি ঐতিহ্য মসলিন সুতা তৈরির প্রযুক্তি ও মসলিন কাপড় পুনরুদ্ধার (প্রথম পর্যায়)’ শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। প্রকল্পের প্রধান বৈজ্ঞানিক করা হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর মো. মনজুর হোসেনকে। আর প্রকল্প পরিচালক নিযুক্ত হন বাংলাদেশে তাঁত বোর্ডের প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আয়ুব আলী।

কাজের শুরুতে মসলিন কাপড় বা তুলার কোনো নমুনাই গবেষকদের কাছে ছিল না। তাঁদের প্রথম কাজ ছিল যে তুলা থেকে সুতা কেটে মসলিন শাড়ি বোনা হতো, সেই তুলার গাছ খুঁজে বের করা। সেই গাছটি আসল ফুটি কার্পাস কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য আবার মসলিন কাপড়ের প্রয়োজন ছিল। এই দুটি জিনিস জোগাড় করাই এই প্রকল্পের প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে।

ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//ওএফ//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।