হাবিপ্রবিতে শিক্ষক সংকট: তীব্র সেশনজটের আশঙ্কা


Published: 2020-10-27 12:49:46 BdST, Updated: 2020-12-05 15:24:21 BdST

হাবিপ্রবি লাইভঃ দীর্ঘ সেশনজটের কবলে দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) এর প্রায় সকল বিভাগের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষক, শ্রেণিকক্ষ, ল্যাব সংকটসহ নানামুখী সংকটে দীর্ঘদিন থেকেই ভুগছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ২০১৫ সালে স্নাতক পর্যায়ে বিজ্ঞান অনুষদে (পরিসংখ্যান, রসায়ন, গনিত ও পদার্থ বিভাগ) শিক্ষার্থী ভর্তি করানো শুরু হলেও আনুপাতিক হারে সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি হয়নি হাবিপ্রবির এ অনুষদের। এ চিত্র পুরো হাবিপ্রবি জুড়ে প্রায় সকল অনুষদের।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সংকট নিয়ে হাবিপ্রবির ১৬ ব্যাচের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের শিক্ষার্থী মোঃ মারুফ হাসান বলেন, 'নবীন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম। গর্ব করার যতটুকু জায়গা রয়েছে তেমনি হতাশ হওয়ার জায়গারও কমতি নেই।

দীর্ঘদিন যাবত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ ও বিভাগগুলোর শিক্ষার্থীরা শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী সহ টেকনিসিয়ান জনবল সংকটে ভুগছে (সোশ্যাল সায়েন্স এ্যান্ড হিউম্যানেটিজ অনুষদ, বিজ্ঞান অনুষদ, ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ, কম্পিউটার সায়েন্স অনুষদ, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ, কৃষি অনুষদসহ অন্যান্য অনুষদ)।

এরই ক্ষোভে বিভিন্ন অনুষদ পরপর কয়েকবার তাদের বিক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ আন্দোলনের মাধ্যমে দেখিয়েছে। অনেক সময় মানববন্ধন ও আন্দোলন জোড়ালো হলেও সেই সকল অনুষদের শিক্ষক সংকটের সমস্যাগুলোর সমাধান হয়নি। বলা বাহুল্য যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের প্রায় ৫০ এরও অধিক শিক্ষক দেশের বাহিরে উচ্চ শিক্ষার জন্য গিয়েছে, কিন্তু তাদের বিকল্প হিসেবে কোনো শিক্ষক নিয়োগ হয়নি।

এগারো হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র ৩২৭ জন শিক্ষক আসলেই অনেক কম। দিন দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স বাড়ছে সেই সাথে সাথে শিক্ষার্থী বাড়ছে। কিন্তু সেই অনুপাতে শিক্ষক, কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারীর নিয়োগ হচ্ছে না। বর্তমানে একটি নিয়োগ এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে কিন্তু এর কোনো সুরাহা নেই।

অভিজ্ঞতা সম্পন্ন অভিজ্ঞ শিক্ষক ছাড়া একটি বিশ্ববিদ্যালয় মেরুদণ্ডহীন।আর এই চাহিদা পূরণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবী এই মুহূর্তে শিক্ষক সংকট নিরসন করা। তাই আমি সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ হয়ে এবং তাদের সমস্যাকে প্রাধান্য দিয়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলরের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

অতিসত্তর যেনো শিক্ষার্থীদের শিক্ষক সংকট নিরসনে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। সেই সাথে সাথে শিক্ষার্থীদের অন্যান্য কার্যক্রমকে সচল করার জন্য বেশ কিছু সংখ্যক কর্মকর্তা, কর্মচারী ও টেকনিশিয়ান নিয়োগ দেওয়া হয়। এছাড়াও টেকনিক্যাল সেক্টরগুলোতে শিক্ষার্থীদের ল্যাব সংকটের কথা না বললেও নয়। ব্যবহারিক জ্ঞানের সুযোগ সুবিধা বাড়ানোর জন্য অতি দ্রুত নতুন একাডেমিক ভবন শিক্ষার্থীদের ব্যবহার উপযোগী করে হস্তান্তর করার আকুল আবেদন জানাচ্ছি ।

বিভিন্ন সংকটের ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. এস.এম হারুন-উর- রশিদ বলেন, "নিয়োগ প্রক্রিয়া একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমরাও জানি হাবিপ্রবিতে শিক্ষক সংকট রয়েছে। যেহেতু উপাচার্য মহোদয় করোনার কারণে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ আছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সেহেতু উক্ত বিষয় আমরা কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।

পক্ষান্তরে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী গণতান্ত্রিক শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মোঃ ফজলুল হক ( বীর মুক্তিযোদ্ধা) বলেন," বর্তমানে কাগজে কলমে হাবিপ্রবিতে স্থায়ী নিয়োগ প্রাপ্ত হয়েছেন ৩২৭ জন শিক্ষক ( হাবিপ্রবি ডায়েরীর তথ্য অনুযায়ী) । কিন্তু এর মাঝে প্রায় ৫০ জনের অধিক শিক্ষক বিভিন্ন ডিগ্রী নিতে বাহিরের দেশে অবস্থান করতেছেন।

আবার করোনা পরবর্তি সময়ে একটি বড় ধরণের চাপ সৃষ্টি হবে শিক্ষকদের উপর। কারণ শিক্ষার্থীদের পূর্বের জটের সাথে করোনার কারণে একটি জটিল প্রক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। আমরা বহুবার উপাচার্য মহোদয়কে এ বিষয়ে জানিয়েছি কিন্তু তিনি কর্ণপাত করেন নি। হাবিপ্রবির হল গুলোতে নেই কোনো প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা।

তাছাড়া টেকনেশিয়ান সহ কর্মকর্তা ও কর্মচারি সংকট রয়েছে হাবিপ্রবিতে। বর্তমান সময়ে যেহেতু প্রশাসনিক কাজ চলছিলো সেহেতু ঝুলে থাকা নিয়োগ গুলো সমাপ্ত করতে পারলে করোনা পরবর্তি সময়ে চাপ বাড়লে তা মোকাবেলা করা সম্ভব হবে। আমরা আগেও বলেছে এখনো বলছি যাতে অতিদ্রুত সময়ের মাঝেই ঝুলে থাকা নিয়োগ গুলো দিয়ে দেয়া হয় ।

আবার ২০১৮ সালের নিয়োগের স্বচ্ছতার বিষয়ে জানতে চাইলে ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মারুফ আহমেদ বলেন," এই উপাচার্যের আমলে যতগুলো শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে সব গুলোই গ্রহণযোগ্য। আমার অনুষদে অনেক শিক্ষক সংকট রয়েছে। তবে গেস্ট টিচার দিয়ে এ সংকট মোকাবেলা করতে চাই না। কারণ ৫/৭ টা ক্লাসে একটি ৩ ক্রেডিটের কোর্স শেষ করে দেয় গেস্ট টিচার আর এতে করে শিক্ষার্থীরা অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি স্থায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া এই উপাচার্যের আমলেই সম্পন্ন করা দরকার। এতে করে আবারো কিছু মেধাবী শিক্ষক পেত হাবিপ্রবি। বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিসম্প্রতি শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। আর এতে যদি কোনো সমস্যা থেকে থাকে তবে বিকল্প হিসাবে অস্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া গ্রহণ করতে পারেন উপাচার্য মহোদয় "।

সার্বিক বিষয় নিয়ে জানতে চাইছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মু. আবুল কাসেম বলেন, "এ মুহূর্তে করোনা পরিস্থিতির কারণে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে হয়তো নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যেতো! তবে যদি কোনো বিভাগে শিক্ষক সংকট থেকে থাকে এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগ যদি অফিশিয়ালি আমাদেরকে জানায়, তবে গেস্ট টিচার দেয়া যেতে পারে।

তবে অস্থায়ী নিয়োগ দিলেও বিভিন্ন সময় স্থায়ীকরণের ব্যাপারে একটি সমস্যা মুখোমুখি হতে হয়। এছাড়া নমনির্মিত ১০ তলা ভবনের কাজ শেষ হলে শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও ল্যাব রুম সংকট কেটে যাবে বলে আশা করি। নমনির্মিত ভবনটি আগামী বছরের ৩০ই জুনের মাঝেই শিক্ষার্থীদের জন্য খুলে দেয়া হবে ।

উল্লেখ্য যে, বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া করোনা মাঝেও চলছে।

ঢাকা, ২৭ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এএস//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।