প্রধান শিক্ষক হত্যা মামলা: ৪ জনের ফাঁসি, ৯ জনের যাবজ্জীবন


Published: 2021-09-15 12:32:30 BdST, Updated: 2021-10-21 10:32:01 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিকন্দি সরফ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস ছামাদ আজাদ হত্যা মামলায় চার আসামিকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

দীর্ঘ প্রার ১১ বছর পর আলোচিত এই হত্যা মামলার রায়ে ন্যায় বিচার পেয়েছে নিহতের পরিবার। তবে আসামিরা উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন- নুরুজ্জামান খান, জাহাঙ্গীর মাতবর, জুলহাস মাতবর ও চান মিয়া। তাদের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করেছেন বিচারক।

অপরদিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- আব্দুল হালিম মোল্লা, আজিজুল মাতবর, ফারুক খান, আজাহার মাতবর, মীজান মীর, আকতার গাজী, জলিল মাতবর, এমদাদ মাতবর ও লাল মিয়া। তাদের ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ টাকা অনাদায়ে তাদের আরও ৬ মাস কারাভোগ করতে হবে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১০ সালের ১৫ জানুয়ারি শুক্রবার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর ইনিয়নের লক্ষিরমোর বাস স্ট্যান্ডে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় আব্দুছ ছামাদ আজাদকে। ১৭ জানুয়ারি নিহত ছামাদ মাস্টারের স্ত্রী ফেরদৌসী আজাদ তৎকালীন চন্দ্রপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম মোল্লকে ১ নাম্বার আসামি করে ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে পালং থানায় হত্যা মামলা করেন। এরপর দীর্ঘ ৮ বছর মামলার তেমন কোন অগ্রগতি না থাকায় ২০১৮ সালে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নেওয়ার জন্য আবেদন জানান মামলার বাদী। ২০১৮ সালের মার্চ মাসে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে-৩ এ স্থানান্তর করেন।

ওই বছরই সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। করোনা মহামারীর কারণে কিছুটা ধীরগতি থাকলেও সব শেষ ২০২১ সালের মার্চ মাসে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। গত ৮ সেপ্টেম্বর এ মামলার আরগুমেন্ট শেষ করা হয় এবং ১৫ সেপ্টেম্বর মামলার রায়ে ৪ জনকে ফাঁসি ৯ জনকে যাবজ্জীবন রায় দেন আদালত। এর আগে তদন্ত শেষে ১৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। অভিযুক্ত ১৮ জনের মধ্যে ১৭ জন কারাগারে ও ২ নং আসামি আজিবর বালি পলাতক রয়েছে।

নিহত ছামাদ মাষ্টার চিকন্দি শরফ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তৎকালীন ২০১০ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ছিলেন। এর আগে ২০০৩ সালের চন্দ্রপুর ইউপি নির্বাচনেও তিনি একজন প্রার্থী ছিলেন। সেই নির্বাচনে অল্পসংখ্যক ভোটে হেরে যান তিনি। পরবর্তীতে ২০১০ সালের নির্বাচনের আগে ছামাদ মাষ্টার স্থানীয়দের কাছে জনপ্রিয় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।