সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ছে স্কুল-কলেজে


Published: 2021-09-19 15:30:41 BdST, Updated: 2021-10-18 07:46:00 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: দেশে মরণঘাতী করোনা ভাইরাসের তাণ্ডব কিছুটা কমে যাওয়ার ফলে খুলে দেওয়া হয়েছে স্কুল-কলেজ। এদিকে প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত কারিকুলামে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। যা আগামী ২০২৩ শিক্ষাবর্ষ থেকে পরিবর্তিত কারিকুলাম ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

তার সঙ্গে স্কুল-কলেজের সাপ্তাহিক ছুটি একদিনের পরিবর্তে দুদিন করা হবে। জাতীয় শিক্ষাক্রমের রূপরেখায় ছুটির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় চাইলে এটি যে কোনো সময় বাস্তবায়ন করতে পারে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সদস্য (শিক্ষাক্রম) প্রফেসর ড. মশিউজ্জামান রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) জানান, নতুন কারিকুলামের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সাপ্তাহিক ছুটি দুদিন হচ্ছে। ছাত্রছাত্রীরা যাতে নিজেদের মতো করে কিছু সময় কাটাতে পারে সে জন্য এই ছুটি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, শুধু শিক্ষক আর ক্লাসের পেছনে দৌড়ে তাদের দিন পার হয়ে যায়। এর ফলে তাদের ওপর পড়ার চাপ বেড়ে যায়। এ কারণে তাদের সাপ্তাহিক ছুটি একদিনের পরিবর্তে দুদিন করা হয়েছে। যাতে করে বন্ধের দিনগুলোতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের মতো করে সময় কাটাতে পারে।

ড. মশিউজ্জামান আরও বলেন, সপ্তাহে ২ দিন ছুটি থাকলেও জাতীয় দিবসগুলোতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে এবং কার্যদিবস হিসেবেই ধরা হবে। এ দিনগুলোতে শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে। এ দিনগুলোর জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হবে। সেই সাথে প্রতিযোগিতায় পারফর্মেন্সের ভিত্তিতে নম্বর দেওয়া হবে। সেই নম্বর বার্ষিক ও অন্যান্য পরীক্ষার সঙ্গে যোগ হবে।

এছাড়া অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে দুই দিন ছুটি থাকলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে এক দিন ছুটি থাকায় শিক্ষকদের মধ্যেও এক ধরনের অসন্তোষ কাজ করছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে শিক্ষাক্রম পরিমার্জন প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, ছুটি বাড়লেও শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমের ক্ষতি হবে না। তাদের লার্নিং আওয়ার কমবে না। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখেই এ প্রস্তাব করা হয়। এতে শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ কমবে বলেও জানানো হয়।

এনসিটিবি জানায়, বিদ্যমান সাপ্তাহিক ও অন্যান্য ছুটি ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বছরে ক্লাস চলে ২১৫ দিন। শনিবার ছুটি হলে ক্লাস হবে ১৮৫ দিন।

নতুন শিক্ষাক্রমের রূপরেখায় জানানো হয়, সাপ্তাহিক ছুটি দুদিন ধরে প্রাক-প্রাথমিকে মোট শিখন ঘণ্টা শিক্ষাক্রম প্রণয়নের সময় নির্ধারণ করা হবে। প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির শিখন হবে ৬৮৪ ঘণ্টা। চতুর্থ থেকে পঞ্চম শ্রেণির হবে ৮৫৫ ঘণ্টা। এ ছাড়া মাধ্যমিক স্তরে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির মোট শিখন ১ হাজার ৫০ ঘণ্টা, নবম ও দশম শ্রেণির ১ হাজার ১১৭ ঘণ্টা। উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ১ হাজার ১৬৭ ঘণ্টা হবে।

জানা গেছে, সপ্তাহে দুদিন ছুটির বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় চাইলে শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের আগেও চালু করলে কোনো ধরনের অসুবিধা হবে না। দুই মন্ত্রণালয় চাইলে তা যে কোনো সময় কার্যকর করা সম্ভব।

ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।