কেমিক্যাল গোডাউনে আগুন: মৃত্যু ৪, রাসায়নিক অপসারণ শুরু


Published: 2021-04-23 17:18:18 BdST, Updated: 2021-05-19 00:10:16 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় ছয়তলা ভবনের নিচতলায় কেমিক্যাল গোডাউনে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এ ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ২১ জন আহত হয়েছেন। এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর পুরান ঢাকার আরমানিটোলার হাজি মুসা ম্যানশন থেকে রাসায়নিক অপসারণ শুরু করেছে ঢাকা জেলা প্রশাসন। শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) বিকেল তিনটা থেকে এই অপসারণ কার্যক্রম শুরু হয়।

অন্যদিকে অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহতরা হলেন- ওই ভবনের নিরাপত্তারক্ষী ও‌লিউল্লাহ, দোকান কর্মচারী রাসেল মিয়া, ভবনের চারতলার বাসিন্দা শিক্ষার্থী সুমাইয়া এবং ও‌লিউল্লাহর কাছে বেড়াতে আসা কবীর নামে আরেকজন।

বংশাল থানার ওসি শা‌হিন ফ‌কির জানান, আগুনের ঘটনায় মোট চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সোয়া ৩টার দিকে হাজী মুসা ম্যানশন নামের ওই ভবনটির নিচতলায় আগুন লাগে। সকাল ৯টার পর আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। ফায়ার সার্ভিসের ১৯টি ইউনিট প্রায় ৬ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

আহতদের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। হাসপাতালটির আবাসিক সার্জন পার্থ শংকর পাল জানান, ‘এ পর্যন্ত ২১ জন আসছে, তাদের সবার কেমিক্যালের ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। একজনকে আইসিইউতে পাঠানো হয়েছে।’ ফায়ার সার্ভিসের ৪ কর্মী আহত হয়েছেন। উদ্ধার অভিযান প্রায় শেষ বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা ফজলুর রশিদ।

এদিকে ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার মাহফুজ রিবেন বলেন, পুরান ঢাকার বাবুবাজার ব্রিজের পাশে আরমানিটোলায় একটি ছয়তলা আবাসিক ভবনের নিচতলায় আগুন লাগার খবর পেয়ে প্রথমে ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট কাজ শুরু করে। এরপর আগুনের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আরও তিনটি ইউনিট যুক্ত হয়। এর কিছুক্ষণ পর আরও চারটি ইউনিট যুক্ত হয়েছে। মোট ১৯টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

রাসায়নিক অপসারণ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন:

রাসায়নিক অপসারণ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন

 

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর পুরান ঢাকার আরমানিটোলার হাজি মুসা ম্যানশন থেকে রাসায়নিক অপসারণ শুরু করেছে ঢাকা জেলা প্রশাসন। শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) বিকেল তিনটা থেকে এই অপসারণ কার্যক্রম শুরু হয়।

ঢাকা জেলা প্রশাসনের লালবাগ সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ওই ভবনের নিচ তলায় রাসায়নিকের অনেকগুলো দোকান এবং গুদাম রয়েছে। এসব দোকান এবং গুদামে প্রচুর পরিমাণে রাসায়নিক রয়েছে। এগুলো ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে নিয়ে ফেলে দেয়া হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, আরমানিটোলা মাঠের পশ্চিম পাশে হাজি মুসা ম্যানশনের অবস্থান। আগুনের ধোঁয়ায় ভবনটি কালো হয়ে গেছে। এর নিচতলা থেকে পৃথক তিনটি পিকআপে রাসায়নিকের বস্তাগুলো সরিয়ে নিচ্ছেন ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিক। জেলা প্রশাসনের লোকজন তা তদারকি করছেন। রাসায়নিক থেকে ফের আগুন জ্বলে ওঠার আশঙ্কায় ভবনটির সামনে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পার্কিং করা রয়েছে। ভবনটি দেখতে উৎসুক লোকজন ভিড় করেছেন।

শুক্রবার রাত তিনটার পর হাজি মুসা ম্যানশনের ছয়তলা ভবনের নিচ তলায় রাসায়নিক গুদামে আগুন লাগে। ওই ঘটনায় এক কলেজছাত্রীসহ তিনজন আহত নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন।

ঢাকা, ২৩ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআইটি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।