বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সন্তোষ চক্রবর্তী আর নেই, শোকের ছায়া


Published: 2021-07-19 20:03:38 BdST, Updated: 2021-07-24 23:15:31 BdST

নেত্রকোনা লাইভ: তিনি সকলকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। আর কোনদিন আসবেন না আর। মানুষের সুখ-দু:খের নিত্যসঙ্গী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার পদমশ্রী গ্রামের পশ্চিম পাড়ার ঠাকুর বাড়ির ডাঃ সনৎ কুমার চক্রবর্তী (সন্তোষ) আর নেই। রোববার (১৮ জুলাই-২০২১) দুপুর ১২.১০ মিনিটে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যু কালে তার বয়স হয়েছিলো ৭৭ বছর। তার কর্ম আর কীর্তি মানুষের মাঝে ভালবাসায় সিক্ত হয়ে থাকবে। এলাকার মানুষের ভাষ্য, নানান কারণে এক এক করে মারা যাচ্ছেন গ্রামের অভিভাবক শ্রেণীর মানুষ। তিনি ছিলেন সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষদের মাঝে একজন সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব। গ্রামের উন্নয়নের প্রশ্নে উনি ছিলেন আপোষহীন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের স্বাধীনতা সংগ্রামের পক্ষে মুজিব বাহিনীর অন্যতম সদস্য ছিলেন ডাঃ সনৎ কুমার চক্রবর্তী (সন্তোষ)। টানা ৩ বার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি মদন উপজেলার সফল পরিচালক হিসেবে দায়িত্বপালন করেন। এছাড়া সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজ গ্রাম এবং উপজেলায় বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে কাজ করেছেন। তিনি ছিলেন কদমশ্রী-মনিকা গ্রামের সবচাইতে পুরানো সামাজিক সংগঠন রেনেসাঁ পাঠাগার ও সমাজক্যাল্যাণ পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা আজীবন উপদেষ্ঠা। রাজনৈতিক ভাবে ছিলে আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা।

এছাড়া মদন বাজারের রাধা- গোবিন্দ জিউড় মন্দিরের আমৃত্যু সভাপতি ছিলেন। মদন বাজারের হরি মন্দিরের সভাপতি ও শ্রী শ্রী অনূকূল ঠাকুরের মন্দিরের উপদেষ্টা ছিলেন। তাছাড়া মদন উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতিও ছিলেন ডাঃ সনৎ কুমার চক্রবর্তী (সন্তোষ) । তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার শূণ্যতা পুরণ হবার নয়।

একজন মানবতাবাদী ও নিবেদিত প্রাণ মানুষ হিসেবে তিনি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন। মদনে অবস্থান করেও তিনি তার গ্রামের বাড়ি পদমশ্রী,পশ্চিম পাড়ার (ঠাকুর বাড়ি)সহ সকল ভাল কাজের সাথে জড়িত ছিলেন। এমনকি এলাকার যে কোন সমস্যায় তিনি থাকতেন অগ্রভাগে। থাকতেন সামনের সাঁড়িতে।

ভারতে যাওয়ার নানান সুযোগ সুবিধা থাকা সত্বেও তিনি ও তার পরিবার পরিজন নিয়ে রয়ে গেলেন চিরসবুজ এই গ্রামে। এটা তার মহানুভবতার জলন্ত প্রমাণ। মাতৃভূমির প্রতি দরদ আর ভালোবাসায় ছিলেন তিনি অনন্য। সাদামাটা জীবন করতেন তিনি।

ছয় ভাই এর সাথে সনৎ কুমার চক্রবর্তী, সন্তোষ। কেবলই স্মৃতি। সর্ব বামে আছেন তিনি।

মদন থানায় এলাকার কোন মামলা হলে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লোকে লোকারন্য থাকতো। এটা-সেটা পরামর্শ নিতে আসতো লোকজন। তার দ্বারা হিন্দু-মুসলিম অনেক মানুষ উপকৃত হয়েছেন। যখন যেভাবে পেরেছেন থেকেছেন গ্রামের পাশে, মানুষের পাশে। উনাকে হারিয়ে আরো একজন উদার মনের ও সদাহাস্যজ্জল মানুষ হারালো গ্রামবাসি। মৃত্যুকালে তিনি ১ ছেলে, ২ মেয়ে স্ত্রীসহ অসংখ্য শুভাকাঙ্খী ও গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি ছিলেন ৭ ভাই ২ বোনের মধ্যে দ্বিতীয়। তার মৃত্যুতে বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষ, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ৪ নং গোবিন্দশ্রী ইউনিয়ন শাখা শোক প্রকাশ করেছে।

সনাতন ধর্মের নিয়ম অনুসারে উনার শেষকৃতের কার্য্য সম্পাদন করা হয়েছে। এতে দলমত নির্বিশেষে গ্রামের সব শ্রেণী-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে সনৎ কুমার চক্রবর্তীর মৃত্যুতে রেনেসোঁ পাঠাগার ও সমাজকল্যাণ পরিষদের পরিচালক ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল ক্যাম্পাসলাইভ এ প্রধান সম্পাদক আজহার মাহমুদ, রেনেসোঁ পাঠাগার ও সমাজকল্যাণ পরিষদের সভাপিত বোরহান উদ্দীন (মাস্টার), সাধারণ সম্পাদক ফজলে এলাহী বাবু এক যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে তারা বলেন, এলাকাবাসী একজন কৃতি সন্তান হারালো। আর রেনেসাঁ পাঠাগার হারালো তাদের একজন গুনগ্রাহী ও সজ্জন উপদেষ্ঠা।

মনিকা গ্রামের একে মেমোরিয়াল সেন্টারের সভাপতি এবিএম মাহবুব-উল- আলম, সাধারণ সম্পাদক ও ৪ নং গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল ওয়াহাব এক বিবৃতিতে বলেন সনৎ কুমার চক্রবর্তী দাদা ছিলেন এলাকার প্রিয় মানুষ। তার শূন্যতা পুরণ হবার নয়।

এদিকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গোবিন্দশ্রী ইউনিয়ন শাখার সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান (মাস্টার) ও সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম পৃথক পৃথক বিবৃতিতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, এমন শান্তিকামী মানুষের অভাব কোন দিন পুরণ হবে না।

নেতৃবৃন্দসহ সকলেই তার আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

ঢাকা, ১৯ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।