Azhar Mahmud Azhar Mahmud
teletalk.com.bd
thecitybank.com
livecampus24@gmail.com ঢাকা | শুক্রবার, ১৯শে এপ্রিল ২০২৪, ৬ই বৈশাখ ১৪৩১
teletalk.com.bd
thecitybank.com
জাতীয় ছুটি ঘোষণা

বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে আর্জেন্টিনায় মেসি-ডি মারিয়ারা

প্রকাশিত: ২১ ডিসেম্বার ২০২২, ০০:৪৫

বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে আর্জেন্টিনায় মেসি-ডি মারিয়ারা

স্পোর্টস ডেস্ক: বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ারে ভাসছে আর্জেন্টিনা। উল্লাশে মুখরিত আবাল-বৃদ্ধ বনিতা। খুশির বারতা নিয়ে কাতার থেকে রোম হয়ে আর্জেন্টিনা পৌঁছেছে মেসির দল। স্থানীয় সময় রাত ২.২০ মিনিটে বুয়েন্স আয়ার্সে নেমেছে বিশ্বকাপজয়ীদের বহন করা বিমান। অন্যদিকে বিশ্বকাপজয়ী দলের আগমন উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার ছুটি ঘোষণা করেছে আর্জেন্টিনা সরকার।

রোববার ফাইনালে টাইব্রেকারে ফ্রান্সকে ৪-২ গোলে হারিয়ে ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তুলল আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসি পেলেন তার অধরা বিশ্বকাপ ট্রফি। মেসিদের স্বাগত জানাতে এবং বিশ্বকাপ ট্রফি এক ঝলক দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে দেশবাসী। মেসি-ডি মারিয়াদের এমন সাফল্যে ফুটবল ভক্তদের ভিড় জমেছে দেশটির রাজধানী বুয়েনস আয়ার্সে। জয় উদযাপন করতে লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমেছে।

আর্জেন্টিনার রাজধানী দেখলে মনে হবে যেন মানুষের ঝড় শুরু হয়েছে। সবশেষ ১৯৮৬ সালে মেক্সিকোর মাটিতে বিশ্বকাপের ট্রফি উচিয়ে ধরেছিলেন ম্যারাডোনা। আনন্দ আর উল্লাশে ফেটে পড়ে গোটা দেশ।

আর্জেন্টিনায় জাতীয় ছুটি ঘোষণা:

মানুষের আনন্দ আর ফর্তির যেন কমতি নেই। বিশ্বকাপজয়ী দলের আগমন উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার ছুটি ঘোষণা করেছে আর্জেন্টিনা সরকার। রোববার ফাইনালে টাইব্রেকারে ফ্রান্সকে ৪-২ গোলে হারিয়ে ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তুলল আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসি পেলেন তার অধরা বিশ্বকাপ ট্রফি। মেসিদের স্বাগত জানাতে এবং বিশ্বকাপ ট্রফি এক ঝলক দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে দেশবাসী।

মেসি-ডি মারিয়াদের এমন সাফল্যে ফুটবল ভক্তদের ভিড় জমেছে দেশটির রাজধানী বুয়েনস আয়ার্সে। জয় উদযাপন করতে লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমেছে। আর্জেন্টিনার রাজধানী দেখলে মনে হবে যেন মানুষের ঝড় শুরু হয়েছে। তবে এখনই বিশ্বকাপ জয়ী তারকাদের দেখতে পারবে না সমর্থকেরা।

কারণ বিমানবন্দরে অবতরণের পর দীর্ঘ ভ্রমণ ক্লান্তি দূর করতে রাতের বাকি সময়টা আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের ট্রেনিং সেন্টারে কাটাবেন মেসিরা। যা কি-না এজেইজা বিমানবন্দরের পাশেই অবস্থিত। দুপুর হলেই সেখান থেকে ছাদখোলা বাসে করে চ্যাম্পিয়ন প্যারেড করবে লিওনেল স্কালোনির দল। প্রায় ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা চলবে এই প্যারেড। যেখানে মেসির হাতে আর্জেন্টিনা দেখবে সেই কাঙ্খিত সোনালী ট্রফি।

উদযাপনের কেন্দ্রস্থল হিসেবে ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ব ওবেলিস্ককে ঠিক করা হয়েছে।

বদলে গেল আর্জেন্টিনা:

সব দিক থেকেই যেন বদলের জয়ধ্বনী। মানুষ আনন্দে মেতে উঠেছে। ঠিক তিন বছর আগেও এই আর্জেন্টিনাকে চোখের জলে বুক ভাসাতে হয়েছিল। সুযোগ নষ্ট আর ভুলের কষ্টে ট্রফি হারানোর বেদনা ভেতরটা কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল তাদের। কয়েক যুগের আক্ষেপ, একটি শিরোপা না পাওয়ার হতাশা শুধুই বাড়ছিল। ঠিক এরই আগের বছর কোচের দায়িত্বভার পুরোপুরি বুঝে নেন লিওনেল স্কালোনি।

রাশিয়া বিশ্বকাপের ব্যর্থতা আর অনেক দিনের ট্রফির খরা কাটাতে নতুনভাবে পরিকল্পনা শুরু করেন স্কালোনি। শুরুতে তিনি বয়সভিত্তিক দলে নজর দেন। তরুণের তুলে আনার চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত পেরেছেনও। এই যেমন হুলিয়ান আলভারেজ, থিয়েগো আলমাদা, এনজো ফার্নান্দেজ এমনকি ম্যাক অ্যালিস্টারের মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়ও দলে ভেড়ান।

ধীরে ধীরে বদলাতে থাকে আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্সে চেহারা। টানা ৩৬ ম্যাচের জয়রথের মধ্যেই ধরা দেয় কোপা আমেরিকার ট্রফি। তাও আবার ব্রাজিলের মতো কঠিন প্রতিপক্ষকে হারিয়ে ২৮ বছরের শিরোপা খরা কাটায় আকাশি-সাদারা। ঠিক ওই জয়ই আরও বেশি চাঙ্গা করে আর্জেন্টিনাকে।

২০২১ থেকে আরও নতুন উদ্যমে চলা আর্জেন্টিনার টার্গেটে পড়ে কাতার বিশ্বকাপ। স্কলোনির স্টাফ টিমে আরও দুই আর্জেন্টাইন রাত-দিন এক করে শুরু করেন তাঁদের বিশ্বজয়ের পরিকল্পনা সাজানোর কাজ। যাঁদের একজন সাবেক জনপ্রিয় সেন্টারব্যাক রবের্তো আয়ালা, আরেকজনও স্বদেশি সাবেক খেলোয়াড় স্যামুয়েল ওয়াল্টার।

এই তিন মাথার নিখুঁত বুদ্ধিতে আর্জেন্টিনা হয়ে ওঠে অধিক শক্তিশালী। মাঝমাঠে রদ্রিগো ডি পলের মতো এক লড়াকু সেনা, ডিফেন্সে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর সঙ্গে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ আর তুখোড় সেন্টারব্যাক নিকোলাস ওতামেন্ডি। ব্যাকলাইন নিয়ে যে আর্জেন্টিনাকে অনেকেই খোঁচা মারতেন, অনেকেই সমালোচনা করতেন, আবার বলতেন তাদের রক্ষণ ছেঁড়া জালের মতো।

আয়ালা-স্কালোনিরা দেখিয়ে দিলেন আর্জেন্টিনার ডিফেন্সও পারে প্রতিপক্ষকে আটকে দিতে। এর পর যে এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে অনেক দিন থাকতে হয়েছিল লাইমলাইটের বাহিরে, শুনতে হয়েছিল অনেকের কটু কথা। গুরুত্বহীন মনে করা হতো তাঁকে। ক্লাবগুলো ছুড়ে ফেলত নিমিষেই। সেই মাটিনেজকে চিনেছেন স্কালোনি।

তাঁর বিশ্বস্ত হাতের দারুণ মুনশিয়ানা টের পান তিনি। নিয়মিত একাদশে সুযোগ পেয়ে মার্টিনেজও রাঙিয়ে দেন আর্জেন্টিনাকে। সেই কোপা আমেরিকায় কলম্বিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি ঠেকিয়ে যাঁর সামনে আসা, নিন্দুকদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া, এবার বিশ্বমঞ্চেও তাঁর হুংকার শুনেছে তারা।

কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপেক্ষ দুই পেনাল্টি সেভের পর ফাইনালে আরেকটি পেনাল্টি আটকে হয়ে যান সেরা গোলকিপার। আর্জেন্টিনার এই দলের সাফল্যের পেছনে আরেকটি নাম লিওনেল মেসি। আগের চার বিশ্বকাপে কোনো বারই সোনালি ট্রফি ছোঁয়া হয়নি তাঁর। ২০১৪ সালে ব্রাজিলের মাটিতে ফাইনালে উঠে হাতছাড়া হয় বিশ্বকাপ। তাই এবারই ছিল তাঁর জন্য শেষ সুযোগ।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই পুরো দল খুব করে চেয়েছিল মেসির হাতে শেষ বেলায় বিশ্বকাপটা দেখতে। তাদের এই একটি চাওয়া আরও বেশি জোরালো হয়, যখন মেসি নিজেও শেষ মনে করে সেরাটা খেলতে থাকেন। অবশ্য প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে বাজেভাবে হারতে হয় আর্জেন্টিনাকে। বলতে পারেন উড়তে থাকা আর্জেন্টিনার ডানা ছেঁটে দেয় সৌদি। তবে এই হারটা যেন তাদের আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।

জয় করার গভীর ইচ্ছা আরও বাড়িয়ে দেয় কয়েক গুণ। প্রতিটি ম্যাচ তখন ডু অর ডাই। আর্জেন্টিনাও খেলেছিল প্রাণপণ দিয়ে। একেবারে সবটুকু উজাড় করে, এক হয়ে। মেসি একটা কথা বারবার বলতেন, 'এই দলটির বড় শক্তি তারা এক হয়ে লড়তে জানে।' এই এক হয়ে লড়াটাই তাদের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে নিয়ে যায়।

হ্যাঁ, এটা সত্য পথে অনেক বাধা এসেছে, আবার হতাশাও। কিন্তু সব ঝেড়ে আর্জেন্টিনা ঠিকই সোনালি ট্রফিটা হাতে নিয়েছে, সেই ১৯৮৬ এর পর দেশের মানুষকে এনে দিয়েছে রোমাঞ্চকর এক অর্জন। যা ভুলে থাকার নয়। কোটি কোটি মেসি ভক্তরা কেবল অপেক্ষায় ছিল তার।

ঢাকা, ২০ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিনয়


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


আজকের সর্বশেষ